মে মাস পর্যন্ত যদি করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে না আসে তবে বাতিল হয়ে যেতে পারে টোকিও অলিম্পিক। তবে অ্যাথলেটদের প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ আইওসি কর্মকর্তার।

সাজানো গোছানো ঝকঝকে পরিচ্ছন্ন সুন্দর দেশ জাপান। সমুদ্রের ঠিক মাঝখানে পাহাড়-পর্বতে ঘেরা পুরো দেশটাই যেন একটা গোছানো বাগান। এমন একটি দেশেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর অলিম্পিকের। কিন্তু করোনাভাইরাসের চোখ রাঙানিতে দেশটিতে অলিম্পিকের আয়োজন নিয়ে জেগেছে শঙ্কা। 

দুই মাসে আগে চীনের উহান থেকে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২৭টি দেশে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত। প্রায় আড়াই হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এই ভাইরাসের সংক্রমণে। এই ভাইরাসের ভয়াবহতার কারণে সারা বিশ্বে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এমনকি অলিম্পিকের আয়োজক দেশ জাপানও করোনাভাইরাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ইতিমধ্যে, দেশটিতে প্রায় ৪ জন মারা গেছেন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে।

জাপানের পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে কিংবা আক্রান্তের সংখ্যা আরো বাড়লে বাদ হতে পারে অলিম্পিকের এবারের আসর। এমনকি দেশটি থেকে সরিয়ে অন্য কোথাও আয়োজনের কথা ভাবছে না আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)। যদি জাপানে না হয় তবে ২০২০ সালের অলিম্পিকই আর আয়োজন না করার পরিকল্পনা তাদের। 

জাপানে অলিম্পিক আয়োজনের ব্যাপারে শঙ্কা দেখা দেওয়ার পর আইওসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডিক পাউন্ড জানিয়েছেন, 'যদি এই রোগটি এতটাই বিপজ্জনক থাকে, তাহলে অলিম্পিক সরাসরি বাতিলই করতে হবে। কারণ, এটা আয়োজনের জন্য অনেক কিছু আমাদের পক্ষে যেতে হবে। অ্যাথলেটদের নিরাপত্তা, স্পোর্টস ভিলেজ, খাবার-দাবার, হোটেল, সাংবাদিক বন্ধুদের নিরাপত্তা। এসব ঠিক না হলে বাতিলই করতে হবে। কিছুদিন পরই আমরা পর্যবেক্ষণ করব। যদি সব ঠিকঠাক ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়, তাহলেই শুধু খেলা হবে, নইলে নয়। এটা পিছিয়ে দেওয়া বা স্থানান্তরের কোনো সুযোগ নেই।'

আগামী ২৪ জুলাই থেকে জাপানের রাজধানী টোকিওতে শুরু হওয়ার কথা ছিল ক্রীড়াজগতের সবচেয়ে বড় আসর অলিম্পিকের। ২০০ দেশের প্রায় ১১ হাজার অ্যাথলেট অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে এই আসরে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অ্যাথলেট আসার কথা করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীন থেকে। বড় দুশ্চিন্তাটা সেখানেই। তবে এখনও আশা ছাড়ছেন না ডিক পাউন্ড। অ্যাথলেটদের অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মে মাসে আসবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা