ইসরায়েলের কারাগারের ভয়ঙ্কর সেই সময়গুলোর কথা কখনোই ভুলতে পারবেন না সামেহ। তিনি এখনো ভয়ে শিহরে ওঠেন কারাগারের সেই ছোট্ট কুঠুরির কথা মনে হলে।

ম্যাচের তখন মাত্র দ্বিতীয় মিনিট চলছে, মাঝমাঠ থেকে অধিনায়ক সামেহ মারাবা এরিয়াল থ্রু ফেললেন ডিবক্সের ভিতরে। তার দেওয়া দারুণ কি পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে খালেদ সালেমের উদ্দেশ্যে স্কয়ার পাস করলেন মোহাম্মদ দারউইশ। বল পেয়েই তা সরাসরি জালে জড়িয়ে দিলেন সালেম। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে বুরুন্ডির বিপক্ষে প্রথমবারের মতো লিড নিলো ফিলিস্তিন। 

৬ মিনিট পরে আবারো দৃশ্যপটে হাজির সামেহ। এবার আর পার্শ্বচরিত্র নয়, সরাসরি নায়ক বনে গেলেন তিনি। তার নেওয়া শট গোললাইন অতিক্রম করলে দ্বিতীয়বারের মতো এগিয়ে যায় যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি। 

পুরো ম্যাচেই তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি ছিল ফিলিস্তিনের প্রায় প্রতিটি আক্রমণে, সহায়তা করেছেন রক্ষণ কাজেও। সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েই টানা দ্বিতীয়বারের মতো বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ফিলিস্তিনকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। অথচ, ফুটবলেই হয়তো তার আর ফিরে আসা হতো না। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে তিনি আবারো ফিরে এসেছিলেন ফুটবল আঙিনায়। ৬ বছর আগে তার সাথে ঘটে যাওয়া দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর নির্মম আচরণের গল্পটা তাহলে শোনা যাক। 

এখন পর্যন্ত নিজস্ব কোন বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে না ফিলিস্তিন। দেশের বাহিরে যেতে হলে নিয়মিত ইসরাইলের তল্লাশির শিকার হয়ে জর্ডান দিয়ে যেতে হয়। নিজ দেশে ফিরে আসার সময় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে তাদের সাথে। আসা-যাওয়ার এই পথে তাদের প্রচুর দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় কারণ ইসরাইলিরা কখন কি করে বসে তা বুঝা বড় মুশকিল।  ২০১৪ সালের ২৮ এপ্রিল সামেহ মারাবা ইসরাইলিদের রোষানলের শিকার হয়েছিলেন। সেইবার তার জীবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ আটটি মাস কেড়ে নিয়েছিল ইসরাইলের অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠী।

কাতার থেকে ট্রেনিং করে জর্ডান দিয়ে নিজের জন্মভূমিতে প্রবেশ করতে যাচ্ছিলেন সামেহ। এমন সময় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী তাকে আটক করে ফেলে। তার বিরুদ্ধে হামাসের জন্য অর্থ ও যোগাযোগ সংক্রান্ত সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়। প্রথম ৪৫ দিন তিনি ডিটেনশন ক্যাম্পে ছিলেন। তারপর তাকে বন্দি করা হয় কারাগারে।

ইসরায়েলের কারাগারের ভয়ঙ্কর সেই সময়গুলোর কথা কখনোই ভুলতে পারবেন না সামেহ। তিনি এখনো ভয়ে শিহরে ওঠেন কারাগারের সেই ছোট্ট কুঠুরির কথা মনে হলে, "সেই সব দিনের কথা মনে পড়লে এখনও কষ্ট লাগে। বিনা কারণে আমাকে আটক করা হয়েছিল। অন্ধকার এক কুঠুরিতে হাঁটু গেড়ে বসে থাকতে হতো সারা দিন। শারীরিক অত্যাচার না হলেও আমার উপর মানসিক নির্যাতন করা হতো। সূর্যের আলো দেখতে পেতাম না, প্রিয়জনদের আর কখনও দেখতে পাবো কিনা জানতাম না।'' 

কারাগার থেকে ফিরে এসে দলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার কাজটা দারুণ কৃতিত্বের সাথেই করেছেন সামেহ, এমন নজির রোজ রোজ দেখা যায় না!


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা