পাঁচ উইকেট নিয়ে প্রোটিয়াদের খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছেন লেগস্পিনার রকিবুল হাসান। এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শেষ চারে গেল বাংলাদেশ!

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের এই আসরে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম হ্যাটট্রিকটা করেছিলেন রকিবুল হাসান, সেই ম্যাচে শিকার করেছিলেন চার উইকেট। আজ বিশ্বকাপের আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও বল হাতে জ্বলে উঠলেন বাঁহাতি এই স্পিনার, একাই পাঁচ উইকেট শিকার করে ধ্বসিয়ে দিলেন প্রোটিয়া যুবাদের মিডল অর্ডার। একটা ভালো মানের বাঁহাতি স্পিনারের যে তীব্র সংকটে ভুগছে বাংলাদেশের ক্রিকেট, সেই অভাবের সংসারে আলোকবর্তীকা হবার স্বপ্ন দেখিয়ে দলকে সেমি ফাইনালে তুলেছেন রকিবুল!

শুরুতে ব্যাটিং করে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে জমা পড়েছিল ২৬১ রান। পচেফস্ট্রমের এই মাঠেই গ্রুপ পর্বের সঅগুলো ম্যাচ খেলেছিল টাইগার যুবারা, কাজেই কন্ডিশন নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়নি তাদের। ওপেনার তানজীদ হাসান খেলেছেন ৮০ রানের ইনিংস, তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে তার তৃতীয় উইকেট জুটিটা শক্ত ভিত্তি এনে দিয়েছিল দলকে। 

তাওহীদ হৃদয় খেলেছেন ৮০ রানের ইনিংস

হৃদয়ের বিদায়ের পর হাল ধরেছেন শাহাদাত হোসেন, বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলেছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। তার মারমুখী ব্যাটিংয়েই বাংলাদেশের সংগ্রহটা আড়াইশো পেরিয়েছে, ২৬১ রানে থেমেছে বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের এই আসরটাকে মাপদণ্ড ধরলে এই রানটা যথেষ্ট নিরাপদ, তবে দরকার নিয়ন্ত্রিত বোলিং। 

শুরু থেকেই সেটা করে গেলেন বাংলাদেশের বোলারেরা। খানিকটা প্রতিরোধ গড়েছিল ল্যুক ব্যুফোর্ট। নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, তেরো ওভারের পরে বলতে গেলে ম্যাচ থেকেই ছিটকে গেছে তারা। ব্রাইস পার্সনসকে দিয়ে উইকেটের খাতা খুলেছিলেন রকিবুল, প্রোটিয়াদের দুই সর্বোচ্চ স্কোরার জোনাথন বার্ড এবং ব্যুফোর্ট তারই শিকারে পরিণত হয়েছেন। মোলেটসেন এবং তিয়ান ভ্যান ভ্যুরেনকে আউট করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেছেন, দলের জয় তারও আগেই নিশ্চিত হয়েছে। 

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে এর আগে একবারই সেমিফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ দল। ২০১৬ আসরে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল মেহেদী হাসান মিরাজদের। সেই আসরে তৃতীয় হয়েছিল বাংলাদেশ। এবারের সেমিফাইনালে রকিবুলদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। ফাইনাল থেকে এক ম্যাচের দূরত্ব, শিরোপা থেকে মাত্র দুই ম্যাচের। ব্যাটে-বলে টাইগার যুবাদের এই দলটা চমৎকার, কাজেই স্বপ্ন দেখতে তো দোষ নেই! 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা