ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া-ভারত, কিংবা নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা কেউই যখন পাকিস্তানে যাওয়ার নাম নিচ্ছে না, তখন তিন দফায় পাকিস্তানে যাবে বাংলাদেশ দল! এখন আবার চার্টার্ড প্লেনের সোয়া এক কোটি টাকা ভাড়াটাও নিজেদের পকেট থেকেই দিচ্ছে বিসিবি।

ঢাকা থেকে লাহোরের দূরত্ব প্রায় আঠারোশো কিলোমিটার। বিমানের হিসেবে এই দূরত্ব অতিক্রমে সময় লাগার কথা আড়াই থেকে তিন ঘন্টা। কিন্ত বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানের সরাসরি কোন ফ্লাইট না থাকায় এই দূরত্বটাই ইউরোপের সমান হয়ে যায়, দোহা হয়ে ঢাকা থেকে পাকিস্তানে যেতে ট্রানজিট সহ সময় লেগে যায় বারো-চৌদ্দ ঘন্টা। ক্রিকেটারদের ঝক্কি কমাতে পাকিস্তানে যাওয়ার জন্যে নিজ খরচে চার্টার্ড প্লেন ভাড়া করেছে বিসিবি, আর তাতেই খরচা পড়ছে সোয়া এক কোটি টাকারও বেশি!

অনেক দেন-দরবার আর আলোচনার পরে পাকিস্তানে যেতে রাজী হয়েছে বাংলাদেশ দল। নিরাপত্তা ইস্যুতে পাকিস্তানে ক্রিকেট খেলতে যেতে চায় না দলগুলো, তবে বাংলাদেশকে সেখানে নিয়ে পাকিস্তান প্রমাণ করতে চাইছে, ক্রিকেট খেলার অবস্থা তাদের দেশে আছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরতে কোন সমস্যা নেই সেদেশে। আজ রাতেই লাহোরের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। আর যে বিমানে চড়া তামিম-মাহমুদউল্লাহরা লাহোরে গেছেন, সেটির ভাড়া হিসেবে বিসিবিকে গুণতে হচ্ছে বাংলাদেশী মুদ্রায় এক কোটি সাতাশ লক্ষ টাকা!

আজ রাত আটটায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভাড়া করা বিমানে (চার্টার্ড ফ্লাইট) ঢাকা থেকে সরাসরি লাহোরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। আড়াই ঘণ্টার ভ্রমণ শেষে বাংলাদেশ দল লাহোরে পৌঁছাবে রাত সাড়ে দশটায়। বিমান বন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাদের নিয়ে যাওয়া হবে হবে হোটেলে, সেখানেও তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিমানে তামিম-সৌম্যরা

বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের উড়োজাহাজ ‘মেঘদূত’- এ চেপে লাহোর যাবেন খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সাপোর্ট স্টাফরা। অন্য কোনো যাত্রী না থাকায় ১৬২ আসনের বিমানের বেশিরভাগ আসনই পড়ে থাকবে ফাঁকা। লাহোরে বাংলাদেশ দলকে নামিয়ে ফাঁকা ফিরতে হবে এই উড়োজাহাজকে। আগামী ২৮ তারিখ আবার ফাঁকা উড়ে গিয়ে নিয়ে আসতে হবে দলকে। এতে বিসিবিকে গুণতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের বাড়তি টাকা।

প্রশ্নটা এখানেই তোলা যায়। এক কোটি সাতাশ লাখ টাকা ছোটখাটো কোন অঙ্ক নয়। পাকিস্তান সফর নিয়ে এমনিতেই সমালোচনা ছিল, সরকারও গ্রীন সিগন্যাল দেয়নি, এরপরেও বিসিবি রাজী হয়েছে সফরে, তাও একবার নয়, তিন দফায় পাকিস্তানে যাবে বাংলাদেশ দল! এখন আবার চার্টার্ড প্লেনের ভাড়াটাও নিজেদের পকেট থেকেই দিচ্ছে বিসিবি। মেনে নিলাম, বিসিবির অনেক টাকা, তারা সেটা খরচ করতেই পারে।

কিন্ত আজ যদি বাংলাদেশে পাকিস্তানের মতো নিরাপত্তা নিয়ে কোন ইস্যু তৈরী হতো, তাহলে পাকিস্তান কি এভাবে সোয়া কোটি টাকা বিমান ভাড়া দিয়ে বাংলাদেশে খেলতে আসতো? যে দলটা আমাদের মাটিতে এসে সিরিজ খেলার বিনিময়ে লভ্যাংশ দাবী করে, তাদের ব্যাপারে এতটা দিল-দরিয়া হওয়ার কোন দরকার ছিল বলে মনে হয় না।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা