সিলেট ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামটা কি এ কারণেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে? মাশরাফি বিন মুর্তজা তার দুই দশকের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ টানবেন এখানে, এমনটাই কি ঘটতে চলেছে তবে? সংবাদমাধ্যমের পাতাজুড়ে আজ এই একটাই প্রশ্ন।

নাজমুল হাসান পাপনের কথাটাকে ধর্তব্যের মধ্যে নিলে ব্যাপারটা উড়িয়ে দেয়ার মতো নয়। জিম্বাবুয়ে সিরিজটা অধিনায়ক হিসেবেই খেলবেন মাশরাফি, কিন্ত এরপরই নতুন অধিনায়কের তালাশে নামবে বোর্ড। তারপর? সাধারণ একজন ক্রিকেটার হিসেবেই খেলবেন মাশরাফি? 

নাজমুল হাসান পাপন স্পষ্টই বলেছেন, মাশরাফি চাইলেই সাধারণ একজন ক্রিকেটার হিসেবে খেলতে পারেন, সেক্ষেত্রে ফিটনেস আর ফর্ম দুটোর প্রমাণ দিয়েই দলে জায়গা করে নিতে হবে তাকে। প্রশ্নটা এই জায়গাতেই উঠছে। ছত্রিশের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা মাশরাফি কি পারবেন নিজের ফিটনেসের প্রমাণ দিতে? বল হাতে সাম্প্রতিক ফর্মও তো পক্ষে নেই তার। 

প্রশ্নটার জবাব মাশরাফি অনেক আগেই দিয়ে দিয়েছেন। আগেও অনেকবার বলেছেন, বিপিএল চলাকালেও সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, অধিনায়কত্ব চলে গেলেও সাধারণ একজন ক্রিকেটার হিসেবে খেলবেন তিনি, লড়াই করবেন দলে জায়গা করে নেয়ার জন্যে। অনুযোগ করেছিলেন, মিডিয়াই তাকে অবসরে পাঠিয়ে দিয়েছে বারবার, তার বিদায় নিয়ে গুঞ্জন তুলেছে। কল্পিত ধারণার ওপরে চর্বিত চর্বন করেছে বারবার। 

মাশরাফি যখন ক্রিকেট খেলা শুরু করেছিলেন, তখন জাতীয় দলে খেলার কথা মাথায় ছিল না। জাতীয় দলে যখন অভিষেক হলো, তখন তিনি জানতেন না একদিন তার কাঁধে অধিনায়কত্বের ভার উঠবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে বোলিং করতে গিয়ে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যখন হাসপাতালে গেলেন, মাঠের বাইরে চলে গেলেন দীর্ঘদিনের জন্যে, তখন মাশরাফি কল্পনাও করেননি যে অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন একটা অধ্যায়ের সূচনা হবে একদিন, সেই দলটার অধিনায়ক থাকবেন তিনি। মাশরাফি জানতেন না, এদেশের ক্রিকেটের অনেকগুলো গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সঙ্গে 'মাশরাফি বিন মুর্তজা' নামটা যুক্ত হয়ে যাবে।

পারফর্ম করতে না পারলে মাশরাফি নিশ্চয়ই জাতীয় দলের পদ আঁকড়ে রাখতে পারবেন না!

মাশরাফি স্রেফ খেলতে চাচ্ছেন। সেটা জাতীয় দল হোক, বিপিএল হোক, ডিপিএল হোক, কিংবা অন্য কিছু। জাতীয় দলেই খেলতে হবে, এগারো জনের মধ্যে না থাকলে সে কোন খেলোয়াড় না- এই তত্ত্বে তিনি কখনও বিশ্বাস করেননি। ঘটা করে মাঠ থেকে বিদায় নেয়ার ভাবনাকে মগজে জায়গা দেননি। যেদিন থেকে খেলতে ইচ্ছে করবে না, শরীর সায় দেবে না, সেদিন থেকে খেলবেন না আর। বিদায়বেলাতে ঘোষণা দিয়ে আসর জমিয়ে সমাপ্তি টানার কোন ইচ্ছে তার নেই। 

আমরাই রঙ চড়িয়েছি, মাশরাফি কবে বিদায় নেবেন, কীভাবে নেবেন, কোত্থেকে নেবেন, শেষ ম্যাচটা দেশে খেলবেন নাকি দেশের বাইরে; এসব নিয়ে হাজারো জল্পনা-কল্পনা আমরাই করেছি। অধিনায়কত্ব বা জাতীয় দলের জায়গাটাকে মাশরাফি কখনও টেকেন ফর গ্র্যান্টেড হিসেবে নেননি, অথচ আমরা ভেবেছি, জাতীয় দলে না থাকলেই বুঝি মাশরাফি শেষ! অধিনায়কত্ব ছাড়ার পরে পন্টিং খেলেছেন, ধোনি খেলছেন, মাশরাফিও খেলতেই পারেন- সেই সম্ভাবনাটা খুব বেশি মানুষ কেন নজরে আনছে না কেন, কে জানে!

বিসিবি অধিনায়ক খোঁজার জন্যে আরেকটু সময় নিতে পারতো কি পারতো না, সেই প্রসঙ্গের দিকে না যাই। বিশ্বকাপকে টার্গেটে রেখে বিসিবি তাদের কাজ করছে, মাশরাফি নিজের কাজটা করবেন, পারফরম্যান্স আর ফিটনেস দিয়ে দলে জায়গা ধরে রাখার মিশনে নামবেন আরও একবার। পারফরম্যান্স দিয়ে মাশরাফি যদি নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন, তবেই দলে থাকবেন, নতুবা নয় নিশ্চয়ই! সে পর্যন্ত মিডিয়া যেভাবে আরও একবার মাশরাফি অধ্যায়ের এপিটাফ লিখছে এই মুহূর্তে, সেই জায়গাটায় ঘোর আপত্তি জানিয়েই লেখাটা শেষ করতে চাই। মাশরাফির শেষটা নিজের সময়মতো মাশরাফিই টানবেন, দেশসেরা দৈনিক পত্রিকা কিংবা নিউজ পোর্টালের শিরোনামগুলো নয়...


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা