৬৩ মিনিট পর্যন্ত ৩-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পরও কিভাবে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়া যায়, সেটাই প্রমাণ করলো মারুফুল হকের চট্টগ্রাম আবাহনী।

নেপোলিয়ন বোনাপার্টের একটি অমৃত বাণী, "অসম্ভব শব্দটা শুধু বোকাদের অভিধানেই পাওয়া যায়।" চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ মারুফুল হকের অভিধানেও বোধ হয় 'অসম্ভব' শব্দটি নেই। তাই তো, ৬৩ মিনিট পর্যন্ত  ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৪-৩ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তার দল। এই জয়ে ফিরে আসার এক অবিশ্বাস্য গল্প লীখেছে চট্টগ্রাম আবাহনী। রূপকথার এই গল্প লিখতে তারা সময় নিয়েছে মাত্র ৩২ মিনিট। আর তাতেই কপাল পুড়েছে বর্তমান লীগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের। নিজেদের ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো পরাজয়ের স্বাদ নিতে হয়েছে তাদের। 

প্রথমার্ধটা ছিল শুধুই বসুন্ধরা কিংসের। ম্যাচের ৪৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন তাজিকিস্তানের ফুটবলার আখতাম নাজারভ। বিরতির বাঁশি বাজার অল্প কিছুক্ষণ আগে লিড দিগুণ করেন বসুন্ধরার আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নিকোলাস ডেলমন্টে। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বড় জয়ের প্রত্যাশা নিয়েই দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু করে বসুন্ধরা কিংস। তাদের সেই প্রত্যাশার পালে আরেকটু হাওয়া দেন অধিনায়ক ড্যানিয়েল কলিন্দ্রেস। তার দেওয়া গোলেই তৃতীয়বারের মতো এগিয়ে যায় কর্পোরেট দলটি। কিন্তু কে জানতো, এর পরে এভাবে দৃশ্যপট বদলে যাবে ম্যাচের। 

ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে গেছে বললে ভুল হবে। আসলে, চট্টগ্রাম আবাহনীর ডাগ আউটে দাঁড়ানো মারুফুল হক নিজের বুদ্ধিদীপ্ত কৌশলে ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দিয়েছেন। তিন গোলে পিছিয়ে থাকার পরেও বিন্দুমাত্র বিশৃঙ্খল হয়নি তার শিষ্যরা। এমনকি তিনি নিজেও ছিলেন অবিচল। সবার চোখে মুখে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। সেটার ফলাফলই তারা পেলেন ম্যাচের ৬৪ মিনিটে। ডান দিকে রাইটব্যাক নাসিরুল নাসিরের বাড়ানো ক্রস থেকে হেডের মাধ্যমে প্রথম গোল পরিশোধ করেন অধিনায়ক চার্লস দিদিয়ের। ২ মিনিট পর সফরকারীদের ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার নিক্সন ব্রিজোলারা নিজের দৃষ্টিনন্দন স্কিল দিয়ে তপুর বর্মনকে পরাস্ত করেন। তাকে রুখতে না পেরে ডিবক্সে ফাউল করে বসেন তপু। ফলে পেনাল্টি পায় চট্টগ্রাম আবাহনী। সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে দ্বিতীয় গোল পরিশোধ করেন নিক্সন নিজেই। 

ম্যাচের ৭৭ মিনিটে মোনায়েম খান রাজুর পরিবর্তে তরুণ মান্নাফ রাব্বিকে নামান কোচ মারুফুল। তার এই সিদ্ধান্তটা যে কতটা কার্যকরী ছিল, ম্যাচের বাকী সময়ে সেটাই প্রমান করেছেন মান্নাফ। চট্টগ্রাম আবাহনীর পরের দুটি গোলেই অবদান রয়েছে এই স্ট্রাইকারের। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ৩ মিনিট আগে ডানদিক থেকে তার বাড়ানো ক্রস থেকে সমতাসূচক গোলটি করেন নিক্সন। ম্যাচে এটি তার দ্বিতীয় গোল। 

ম্যাচের মোড় এভাবে ঘুরে যাওয়ার পর বসুন্ধরা কিংসের কোচ অস্কার ব্রুজন যেন জবাবহীন হয়ে পড়েছিলেন। মারুফুলের এমন বুদ্ধীদীপ্ত ট্যাক্টিসের কোন প্রতিউত্তর ছিল না তার কাছে। মাত্র ৩২ মিনিটের ঝড়ে চট্টগ্রাম আবাহনীর এমন গোল বন্যায় কোনো বাঁধ তো দিতে পারেনিই, বরং শেষ বাঁশি বাজার ২ মিনিট আগে ডানদিক থেকে আবারো মান্নাফের ক্রস থেকে চিনেদু ম্যাথিউ গোল করলে হারের গ্লানি নিয়ে মাঠ ছাড়তে তার দলকে।

ফিরে আসার এমন অবিশ্বাস্য গল্পগুলো রোজ রোজ দেখা যায় না। মারুফুল হকের চট্টগ্রাম আবাহনীর কল্যাণে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরাও মুগ্ধ চোখে দেখে নিলো ফিরে আসার এক অবিশ্বাস্য গল্প!


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা