ফুটবলের মাঠে ইনজুরি খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। এই ইনজুরি কখনো কখনো ফুটবলারদের ক্যারিয়ারই ধ্বংস করে দেয়। মাইকেল ওয়েন, মার্কো রিউস কিংবা ড্যানিয়েল স্টারিজের মতো তারকা ফুটবলারদের ক্যারিয়ারের মুল্যবান অনেক সময় ইনজুরি ধ্বংস করে দিয়েছিল।

ফুটবলারদের কখনো খুবই হৃদয়বিদারকভাবে, আবার কখনো খুবই হাস্যকরভাবে ইনজুরি হওয়ার ইতিহাস রয়েছে। এমন ৫টি অদ্ভুত ইনজুরির ঘটনা নিয়ে আমাদের এই প্রতিবেদন।

১। কেভিন কাইল (স্কটল্যান্ড)- কেভিন কাইল ২০০০-২০০৬ সাল পর্যন্ত ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের দল সান্ডারল্যান্ডের হয়ে খেলতেন। ২০০৬ সালে এই স্কটিশ প্লেয়ার প্রথমবারের মতো বাবা হন। একদিন তিনি তার সন্তানের জন্য বোতলে করে দুধ গরম করতে যান। তখন অসতর্কতাবশত বোতলটি হাত থেকে ছিটকে পড়ে কাইলের অণ্ডকোষের থলি এবং উরুদেশ পুড়ে যায়। যার কারনে তিনি সান্ডারল্যান্ডের হয়ে প্রিমিয়ার লীগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ মিস করেন। প্রথম কয়েকদিন ঠিকমতো হাঁটতেও পারতেন না কাইল। এত ভয়াবহ অবস্থা থেকেও সেরে ওঠেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে আবারো মাঠে নেমেছিলেন সাবেক সান্ডারল্যান্ডের এই স্কটিশ স্ট্রাইকার।

কেভিন কাইল
​​​​

২। সান্তিয়াগো ক্যানিজারেস (স্পেন)- ২০০২ বিশ্বকাপের আগে ক্যানিজারেস ছিলেন স্পেনের প্রথম একাদশের গোলকিপার। ট্রেনিং ক্যাম্পে থাকা অবস্থায় একদিন পারফিউম বোতলের উপর পড়ে গিয়ে তার ডান পায়ের একটি টেন্ডন ছিঁড়ে যায়। ফলে সেই বিশ্বকাপে আর খেলা হয়নি তার। তিনি আশা করেছিলেন, পরবর্তী কোন বিশ্বকাপে স্পেনের প্রতিনিধিত্ব করবেন। কিন্তু ২০০২ বিশ্বকাপে তাকে রিপ্লেস করা ইকার ক্যাসিয়াস ততদিনে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করে ফেলায় ক্যানিজারেসের সেই আশা আর পূরণ হয়নি।

সান্তিয়াগো ক্যানিজারেস

৩। পাওলো ডিয়োগো (সুইজারল্যান্ড)- বিয়ের কয়েকদিন পর সুইস ক্লাব সারভেত্তের হয়ে একটি ম্যাচ খেলার সময় অদ্ভুত দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন পাওলো ডিয়োগো। ম্যাচটিতে একটি গোল করেছিলেন তিনি। সেই গোলের উদযাপন করতে গিয়ে নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনেন। উদযাপন করতে করতে এক সময় দর্শক সারির সামনে থাকা প্যারিমিটার বেড়ার কাছাকাছি চলে আসেন তিনি। দুর্ভাগ্যবশত, তখন প্যারিমিটার বেড়ায় আটকে যায় তার হাতে থাকা বিয়ের আংটিটি। খুলতে গিয়ে তার একটি আঙ্গুলের শীর্ষ দুটি জয়েন্ট কাটতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এই দুর্ঘটনার কারণে খেলা সাময়িকভাবে কিছুক্ষন বন্ধ থাকে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, মাত্রাতিরিক্ত উদযাপনের জন্য রেফারিও হলুদ কার্ড দেখান এই সুইস-পর্তুগিজ মিডফিল্ডারকে।

পাওলো ডিয়োগো

৪। রবি কিন (আয়ারল্যান্ড)- সাম্প্রতিক সময়ে আয়ারল্যান্ডের সেরা খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্যতম রবি কিন। তিনি লিডস ইউনাইটেড, টটেনহ্যাম এবং লিভারপুলের মতো কয়েকটি শীর্ষ ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। লা গ্যালাক্সির হয়ে খেলার সময়, একবার অদ্ভুত এক ইনজুরির শিকার হন এই আইরিশ ফরোয়ার্ড। একদিন বাসার সোফায় হেলান দিয়ে টিভি দেখছিলেন কিন। তখন ডেস্কে থাকা টিভি রিমোট নিতে গিয়ে সোফা থেকে পড়ে হাঁটুতে মারাত্মক চোট পান কিন ।এমনকি এই চোটের ফলে তার হাঁটুর কার্বিলেজ ফেটে যায়। এই হাস্যকর ইনজুরির জন্য অনেকদিন মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে এই স্ট্রাইকারকে। শুধুমাত্র রবি কিনই নন, টিভির রিমোট কন্ট্রোল নিতে গিয়ে এরকম দুর্ঘটনায় পড়েছিলেন কার্লো চুডিসিনি, ডেভিড জেমস এবং ডেভিড সীমানের মতো ফুটবলারও।

রবি কিন

৫। ডেভিড ব্যাকহাম (ইংল্যান্ড)- ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এফএ কাপে হেরে ফার্গুসন তার দলের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন, বিশেষ করে ডেভিড ব্যাকহামের উপর। তিনি এতোটাই ক্ষুব্ধ হন যে রাগে তিনি ব্যাকহামের দিকে বুট মেরে দিয়েছিলেন! পরবর্তীতে এই বুটটা গিয়ে আঘাত করে ব্যাকহামের চোখের ঠিক উপরে। তখন ব্যাকহামের চোখের উপরের কিছু অংশ ফেটে যায়। ব্যাকহামও তখন উত্তেজিত হয়ে ফার্গুসনের দিকে তেড়ে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু উপস্থিত খেলোয়াড় ও টিম ম্যানেজমেন্টের অন্যান্যদের কারণে সেটা সম্ভব হয় নি। ব্যাকহামের মাদ্রিদ যাওয়ার গুঞ্জন এবং খেলায় তার ওয়ার্করেট কমে যাওয়ায় অ্যালেক্স ফার্গুসন তার প্রতি রাগান্বিত হয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। পরে অবশ্য, ব্যাকহাম সত্যি সত্যিই মাদ্রিদে চলে গিয়েছিলেন।

ডেভিড ব্যাকহাম

 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা