কাতালান ডার্বিতে শুরু থেকেই অগোছালো ফুটবল খেলেছে বার্সা, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল না তাদের হাতে। বল পজিশনিং ধরে রাখলেও, ঘর গুছিয়ে পরিকল্পিত আক্রমণে ওঠাটা হয়ে উঠছিল না। বরং পালটা আক্রমণে ভীতি ছড়াচ্ছিল এসপানিওল।

গেটাফেকে হারিয়ে ঘন্টা দুয়েক আগেই লীগ টেবিলে সবার ওপরের জায়গাটা দখল করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। বার্সেলোনার ওপর অলিখিত একটা চাপ তাই ছিলই। তার ওপরে অ্যাওয়ে ম্যাচ, নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এসপানিওলের মাঠে। ম্যাচের শুরুতে ভেঙে পড়ার শঙ্কা জাগিয়ে গোলও খেয়ে বসেছিল কাতালানরা। শেষমেশ সেই ভঙ্গুর দশা থেকে মুক্তি মেলেনি আর, প্রতিপক্ষের মাঠে বারবার ধাক্কা খাওয়ার ধারবাহিকতা বজায় রেখে পয়েন্ট খুইয়ে এসেছে আর্নেস্তো ভালভার্দের দল, ম্যাচ ড্র হয়েছে ২-২ গোলে। 

কাতালান ডার্বিতে শুরু থেকেই অগোছালো ফুটবল খেলেছে বার্সা, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল না তাদের হাতে। বল পজিশনিং ধরে রাখলেও, ঘর গুছিয়ে পরিকল্পিত আক্রমণে ওঠাটা হয়ে উঠছিল না। বরং পালটা আক্রমণে ভীতি ছড়াচ্ছিল এসপানিওল। সেটারই ফল তারা পেলো ম্যাচের বিশ মিনিটে, বার্সেলোনার রক্ষণভাগের ভুলে ফাঁকায় পাওয়া বলে দারুণ এক হেড করে দলকে এগিয়ে নিলেন ডেভিড লোপেজ। 

গোল খেয়ে গা ঝাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছে বার্সেলোনা, কিন্ত ফল আসেনি, ভাঙেনি এসপানিওলের গোলমুখ। অতন্দ্র প্রহরী হয়ে গোলবারের সামনে আগলে দাঁড়িয়েছিলেন ডিয়াগো লোপেজ। মেসির দুর্বল শট তাকে বিব্রত করতে পারেনি একটুও, সফল আক্রমণও রচিত হয়নি বলার মতো। বল পজিশনিংয়ে ঢের এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা, কিন্ত গোলটাই এলো না শুধু। 

সুয়ারেজের গোলে ম্যাচে ফিরেছিল সমতা

কাঙ্ক্ষিত সেই গোলের দেখা মিললো ম্যাচের পঞ্চাশ মিনিটে। জর্ডি আলবার পাস থেকে লক্ষ্যভেদ করলেন সুয়ারেজ, এস্তাদি কর্নেলায় দুই নগর প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে ফিরলো সমতা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই রাকিটিচের বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন আর্তুরো ভিদাল, খেলাউ গতি বাড়লো তখন থেকেই। সফরকারীদের এগিয়ে নেয়ার কাজটাও করলেন তিনি। সুয়ারেজের ক্রস থেকে লক্ষ্যভেদে ভুল করলেন না চিলির এই মিডফিল্ডার। 

প্রথম গোলটা হয়েছিল ডি জংয়ের ক্ষমাহীন এক ভুলে। বেচারার জন্যে পুরো ম্যাচটাই ভুলে ভরা ছিল। দুটো হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন ৭৫ মিনিটে, দশজনের দল নিয়ে বার্সেলোনা নিজেদের লিডটা আর ধরে রাখতে পারলো না শেষমেশ। ম্যাচের অন্তিম সময়ে দুরূহ এক কোণ থেকে দারুণ এক গোল করে সমতা ফেরালেন এসপানিওলের চীনা উইঙ্গার উ লেই। বার্সেলোনার তিন পয়েন্ট নিয়ে ঘরে ফেরার আশাও সেখানেই শেষ। 

এসপানিওলের বিপক্ষে অতীত রেকর্ডটা সুখকর থাকলেও, মেসির পা থেকে গোল আসেনি আজ, গোল করাতেও পারেননি বিশ্বের সেরা এই ফুটবলার। শেষের কয়েকটা মিনিট গোলমুখ খোলার প্রাণপণ চেষ্টা করে গেলেও ফল আসেনি আর, সঙ্গী হয়েছে কেবলই হতাশা। বাজে ট্যাকটিকস আর পরিকল্পনাবিহীন ফুটবলের মাশুলটা পয়েন্ট খুইয়েই দিতে হয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টদের। এই ড্র-য়ের ফলে পয়েন্ট তালিকায় রিয়ালকে টপকে যাওয়া হলো না বার্সেলোনার, দুই দলের পয়েন্টই এখন ৪০।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা