ম্যাচ শেষের পর মাঠের ভেতরে কয়েক মুহূর্তের জন্যে ঘটে গেছে অপ্রীতিকর একটা ঘটনা, যেটাকে ভারতীয় অধিনায়ক বলেছেন লজ্জাজনক, বাংলাদেশ অধিনায়ক দলের পক্ষ থেকে ক্ষমাও চেয়েছেন সেজন্যে। কি হয়েছিল আসলে মাঠে?

রাকিবুলের ব্যাট থেকে জয়সূচক রানটা এসে গেছে, বাউন্ডারি লাইনের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশের যুবারা ততক্ষণে প্রবেশ করেছে মাঠে, শুরু হয়ে গেছে জয়োল্লাস! কারো হাতে পতাকা, কেউবা স্ট্যাম্প তুলে নিয়েছেন, প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে তখন বিমোহিত শরীফুল-রাকিবুল-নাবিলরা। কিন্ত এরইমধ্যে কয়েক মুহূর্তের জন্যে ঘটে গেছে অপ্রীতিকর একটা ঘটনা, যেটাকে ভারতীয় অধিনায়ক বলেছেন লজ্জাজনক, বাংলাদেশ অধিনায়ক দলের পক্ষ থেকে ক্ষমাও চেয়েছেন সেজন্যে। কি হয়েছিল আসলে মাঠে? 

খেলা শেষ হবার পরে বাঁধভাঙা আনন্দের উদযাপন করতে গিয়েই ভারতের ক্রিকেটারদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটারেরা, দুই দলের কয়েকজন তো ধাক্কাধাক্কিও করেছেন, মুখের ভাষাটাও ঠিক খেলোয়াড়সুলভ ছিল না বলেই জানা গেছে।

প্রথমবার শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশের তরুণেরা, কাজেই আবেগের বাড়াবাড়ি ছিল। অন্যদিকে ম্যাচ হারের পর চোখের সামনে এমন উদযাপন দেখে তেতে উঠেছে ভারতও, কাজেই বেঁধেছে খিটিমিটি। তবে ভব্যতার সীমা প্রথমে বাংলাদেশীরাই ভেঙেছেন বলে দাবী করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার এবং এবেলা।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, তখন ক্যামেরাও মাঠ থেকে ঘুরে গিয়েছিল বাজে কিছু একটা হচ্ছে বুঝতে পেরে, ক্যামেরায় তখন ধরা পড়েছে দর্শকদের উদযাপন। সেজন্যেই টিভির সামনে বসে খেলা দেখা দর্শকেরা ঠিক বুঝে উঠতে পারেননি যে ঘটনাটা কি ঘটেছে। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে এসে ভারতীয় অধিনায়ক প্রিয়ম গার্গ এই প্রসঙ্গটা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আঙুল তুলেছেন বাংলাদেশ দলের দিকে, বলেছেন-

‘আমরা স্বাভাবিকই ছিলাম। আপনি কোনো দিন জিতবেন, কোনো দিন হারবেন—এটাই তো খেলার স্বাভাবিক নিয়ম। তবে ওঁদের প্রতিক্রিয়া কদর্য ছিল। এমনটা হওয়া উচিত ছিল না। যা–ই হোক, এটি বড় কিছু না।’

বাংলাদেশ অধিনায়ক আকবর আলী অবশ্য সাফাই গেয়ে পাল্টা তোপ দাগার পরিবর্তে নিজের দলের ভুল স্বীকার করে নিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন, বুঝিয়ে দিয়েছেন, ম্যাচে যেমন তার মাথাটা ঠান্ডা থাকে, মাঠের বাইরেও তিনি তেমনই কুল। আকবর বলেছেন- 

'যা হয়েছে তা দুঃখজনক, এটা হওয়া উচিত ছিল না। আমি জানি না ঠিক কী হয়েছে। আমি জিজ্ঞেসও করিনি কী হচ্ছে। তবে এ তো জানাই, ফাইনালে আবেগ-টাবেগ একটু বেশি থাকে। ছেলেরাও একটু বেশি উত্তেজিত থাকে, আবেগ ধরে রাখতে পারে না। তবে তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে এমনটা হওয়া উচিত নয়। যেকোনো অবস্থায়, যেকোনো আচরণে আমাদের উচিত প্রতিপক্ষকে সম্মান দেখানো। খেলাটার প্রতিও শ্রদ্ধা থাকা দরকার। ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা হিসেবেই পরিচিত। তাই আমি বলছি, আমার দলের পক্ষ থেকেই বলছি, আমি দুঃখিত।’

তবে ইএসপিএন ক্রিকইনফোর খবরে জানা গেছে, বিষয়টা এত সহজে মিটে যাচ্ছে না। বিষয়টা ধাক্কাধাক্কিতে গড়ানোয় আইসিসিও নাক গলিয়েছে এখানে, ম্যাচ রেফারি পুরো বিষয়টা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেবেন আজ। কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে জরিমানা থেকে ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত যে কোন শাস্তিই জারী হতে পারে। জয়ের উল্লাসটা যে পরিমিত পর্যায়ে রাখতে হয়, বাংলাদেশের যুবারা নিশ্চয়ই এই ঘটনা থেকে শিখবেন সেটা... 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা