তিন সপ্তাহ পর এনফিল্ডের সেকেন্ড লেগে এই পরিসংখ্যান অবশ্যই বদলাতে হবে অল রেডদের। না হলে যে সেকেন্ড রাউন্ডেই বিদায় ঘন্টা বেজে যাবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের!

এস্তাদিও ওয়ান্দা মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে লিভারপুল এই ম্যাচের আগে একবারই খেলেছিলো, এবং সেটি ছিলো গতবছরের চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনাল। বলার অপেক্ষা রাখে না, সেই স্মৃতি ছিলো সুখের। কিন্তু এদিন ম্যাচের বয়স তখন ৪ মিনিটও পেরোয়নি, কর্নার থেকে কোকের ক্রসে ডি বক্সের মধ্যে জটলা থেকে সাউল নিগুয়েজের গোল! লিভারপুলের সুখস্মৃতি বেশিক্ষন স্থায়ী হয়নি। ম্যাচের বাকি সময়েও এই স্কোরলাইন বদলাতে পারে নি তারা।

এই ম্যাচে যে অনেক বেশি গোল হবে না তা অনুমিতই ছিলো। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের যে প্লেয়িং স্টাইল এবং লিভারপুলের এওয়ে ম্যাচ হওয়াতে দুইদলের লক্ষ্যই ছিলো আগে রক্ষনভাগ সামলে আক্রমন করা। অ্যাটলেটিকো শুরুতেই গোল পাওয়াতে তাদের জন্য কাজ সহজ হয়ে গিয়েছিল। 

অ্যাটলেটিকো সাধারণত তাদের দুর্দান্ত ডিফেন্সিভ ফুটবলের জন্য পরিচিত হলেও এই ম্যাচে গোল করার মত বেশি সুযোগ সৃষ্টি করেছিলো তারাই। প্রথমার্ধে তারা অন টার্গেট শট নিয়েছিলো ২টি, যার মধ্যে ২৫ মিনিটে ছিলো আলভারো মোরাতার শটে এলিসনের দুর্দান্ত সেভ। 

পাল্টা আক্রমনেই লিভারপুলের হয়ে ফিরমিনোর পাসে গোল করেন মোহম্মদ সালাহ৷ কিন্তু ফিরমিনো ছিলেন পরিষ্কার অফসাইড পজিশনে। এছাড়া ৩৫ মিনিটে মোহামেদ সালাহর একটি শট হেডের মাধ্যমে কর্নারের বিনিময়ে বাচান  ফিলিপে। প্রথমার্ধে ১-০ তে এগিয়ে থেকে টানেলে যায় ঘরের মাঠের দল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইয়ুর্গেন ক্লপ সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। সাদিও মানেকে তুলে নিয়ে নামান ডেভক অরিগিকে। লিভারপুল ম্যাচে তাদের সেরা সুযোগ পায় ৫২ মিনিটে। মোহম্মদ সালাহর হেড অল্পের জন্য বাইরে দিয়ে যায়। এরপরে লিভারপুল বল নিজেদের কাছে রেখে আক্রমনে যাওয়ার চেষ্টা করেছে  কিন্তু ফাইনাল থার্ডে গিয়ে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের জমাটবাধা ডিফেন্সের কাছেই খাবি খেয়েছে। উল্টো ম্যাচের ৬৬ মিনিটে সিমিওনের দল ব্যবধান বাড়াতে পারতো। গোলকিপার এলিসনকে একা পেয়েও মোরাতা বল পায়েই রাখতে পারেন নি।

পুরো ম্যাচের চিত্র বোঝাতে একটি স্ট্যাটসই যথেষ্ট৷ ম্যাচে লিভারপুলের বল পজেশন ছিলো ৭৩% কিন্তু তারা অন টার্গেটে শট রাখতে পারে নি একটিও। তিন সপ্তাহ পর যখন এনফিল্ডে সেকেন্ড লেগ হবে, এই পরিসংখ্যান অবশ্যই বদলাতে হবে অলরেডদের। না হলে যে সেকেন্ড রাউন্ডেই বিদায় ঘন্টা বেজে যাবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের।

পরিসংখ্যানে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ-লিভারপুল ম্যাচ:

১.চ্যাম্পিয়ন্স লীগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে সাউল নিগুয়েজের (৫) চেয়ে বেশি নক আউট গোল আছে শুধু আন্তোইন গ্রীজম্যানের (৬)।

২.সাউল নিগুয়েজের এটি ছিলো চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ১০ নম্বর গোল, সব গুলো গোলই ছিলো ম্যাচের প্রথম গোল!

৩. ২০২০ সালে লিভারপুল গোল হজম করেছে ২টি। যার ১টি দিয়েছে রাউল (হিমিনেজ) আর একটি সাউল (নিগুয়েজ)।

৪. ডিয়েগো সিমিওনের অধীনে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের নক আউট রাউন্ডে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ কখনো হোম ম্যাচ হারেনি।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা