আকবর যে জিনিসটা করেছে সেটাকে ক্রিকেটের ভাষায় বলা হয় ব্যাটসম্যানশিপ।

(Asif Shibgat Bhuiyan এর ফেসবুক ওয়াল থেকে সংগৃহীত)

আকবর আলি যখন ব্যাটিঙে নামে তখন তো অবভিয়াসলি আমি ধরেই নিয়েছিলাম যে বাংলাদেশ হারবে। বিশ্নয়ের প্রথম ৩/৪ টা বলের যে কোনোটাতে আকবর আউট হয়ে যেতে পারতো। আমি বুঝতে পারছিলাম না সে কেন ব্যাকফুটে খেলছিলো এটা বোঝার পর যে বিশ্নয় গুগলিই করবে।

বিশ্নয়ের বলে ব্যাকফুটে খেলাটা অবশ্যই ভুল ছিলো। কিন্তু আকবরের ওভারঅল ম্যাচ প্ল্যানেরই অংশ ছিলো এটা এবং আকবরের ঠান্ডা মাথারই পার্ট এটা। সে সব স্পিনারদেরই ব্যাকফুটে লেইটে খেলেছে। যখন একের পর এক উইকেট পড়ছিলো তখনও তার টার্গেট ছিলো সে আগে কমিট না করে বল পিচ করার পর পিচ থেকে বল বুঝে লেইটে খেলবে।

আকবর যে জিনিসটা করেছে সেটাকে ক্রিকেটের ভাষায় বলা হয় ব্যাটসম্যানশিপ। ব্যাটসম্যানশিপ দিয়ে কেবল চার ছক্কা বা রান করা বোঝায় না। ব্যাটসম্যানশিপ হলো ব্যাটসম্যানের টোটাল গেইম অ্যাওয়ারনেস, যেটার সবচেয়ে ভালো উদাহরণ আমাদের সময়ে এম এস ধোনী। আকবর আলি খামাখা পেটায়ওনি আবার খামাখা ঠেকায়ওনি। যখন যেটা করেছে - সেটা করেছে ম্যাচের ব্যাপারে একটা প্ল্যান মাথায় রেখে। তাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো যে তার নিজের মনে কোনও সন্দেহ নেই ম্যাচটা জেতার ব্যাপারে।

প্রথম দিকে ও ২৬ বলে ২৩ রান করে একটি ছক্কা ও দুটি চার মেরে। দুটি চার ছিলো বিশ্নয়ের বলে। তখন থেকেই বিশ্নয়ের রিদম শুধু আগের চেয়ে ভোঁতা হয়েছে তাই না (আগের মতো ওর বল স্কিড করছিলো না, কারণ সে লেংথ আরও টেনে দিয়েছিলো), ইন্ডিয়ান ক্যাপ্টেইনও বিশ্নয়কে সরিয়ে ফেলে। আপনারা শুনেছেন যে টম মুডি বলছিলেন যে বিশ্নয়কে ধরে রাখলে ফলাফল অন্যরকম হতে পারতো।

কিন্তু এরপর যখন শামীম আউট হয়ে গেলো তখন থেকেই আকবর বল ছাড়া শুরু করে। এমনকি খেলার একটা টেনস মুহুর্তে আকবর আলি দুই ওভার পরপর মেডেনই দেয়নি, প্রতিটি বলই ছেড়ে দিয়েছে। ১০/১২টা বল ডট দেয়ার পর আপনি অস্থির হয় না এমন ব্যাটসম্যান দেখেননি বললেই চলে। কিন্তু আকবর ছিলো পুরোপুরি ঠান্ডা। দিস ওয়াজ আ মাস্টার প্ল্যানার যে সবই করছিলো একটা প্ল্যানকে মাথায় রেখে।

অপর পাশে যখন উইকেট পড়ছিলো একবারও আকবর আলিকে হেড ডাউন করতে, বিরক্ত হতে বা ফ্রাস্ট্রেটেড হতে দেখা যায়নি। এমনকি ৪১ ওভারের সময় যখন আম্পায়াররা চিন্তা করছিলো যে বৃষ্টির কারণে মাঠ থেকে বের হবে কিনা তখনই আকবর ড্রেসিং রুম থেকে পানি ও গ্লাভসের জন্য কল করে সময় নষ্ট করার জন্য। এই ধরণের গেইম সেন্স বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সচরাচর দেখা যায় না। আন্ডার নাইন্টিন টুর্নামেন্টে আপনি বাংলাদেশ কেন, কোনও দেশের ব্যাটসম্যানের কাছেই আশা করতে পারেন না এতটা পরিপক্কতা।

আকবর আলি যদি ভবিষ্যতে খুব ভালো না করে খুবই অবাক হবো। তবে এই ইনিংসটা বাংলাদেশের ক্রিকেট ফোকলোরের অংশ হয়ে থাকবে। আমি তো সারাজীবন মনে রাখবো। সত্যি কথা বলতে আকবর আলির ব্যাটিঙের কিছুটা দেখার পর থেকে আমি রেজাল্টের ব্যাপারে টেনশন বন্ধ করে দিয়ে প্রতিটি বলে ওর ব্যাটিং উপভোগ করেছি।

একটা জিনিস খেয়াল করেছেন কিনা। এম এস ধোনীর মতই আকবর লাইমলাইট পছন্দ করে না। ঠিক যেমন ২০১১ ওয়ার্ল্ড কাপ জেতার পর ধোনীকে আপনি সামনে খুব একটা দেখেননি, একইভাবে আকবর আলিও ট্রফি তুলে ধরার পরপরই ট্রফি টিমমেটদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে পেছনে চলে গেছে। আমি মোটামুটি নিশ্চিত যে ধোনীকে সে আইডল হিসেবে নিয়েছে। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান কিন্তু!


ট্যাগঃ

শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা